হোয়াটস এ্যপের নতুন আপডেটের পর এলন মাস্ক থেকে শুরু করে ওয়ানটাইম কাপে রং চা খাওয়া এই আমিও WhatsApp এর ডাটা সিকিউরিটি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরলাম। যদিও লাস্ট কবে আমার WhatsApp এ ম্যসেজ এসেছিল তা আমি নিজেই ভুলে গেছি। তাও চলেন আজকে কথা বলি End to End Encryption নিয়ে।
End To End Encryption নিয়ে সবথেকে বেশি মাথা ব্যথা কার বলেন তো ?
ভেবে পাচ্ছেন না ? উত্তর আমি দিয়ে দেই। সরকার আর FBI, CIA এর মতো প্রতিষ্টানগুলোর।
কেন তাদের সমস্যা সেই উত্তর পড়া শেষ হবার সাথে সাথেই বুঝে যাবেন ।

তো এনক্রিপশন জিনিষটা কি ?

একদম সহজ ভাষায় এনক্রিপশন হইলো তালা। এখণ আপনি আমাকে জিগ্গেস করবেন দেবদা, ইন্টারনেটে তালা চাবি কই থেকে আসলো?? কেন আসলো ?
আমরা প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে প্রচুর ডাটা আদান প্রদান করি । ব্যাংকিং , পাস ওয়ার্ড, ছবি ভিডিও ‌ইত্যাদি। সেই গুলো যদি প্রাপক ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি দেখে ফেলে তাহলে অনেক সময় বেশ অসুবিধা সৃষ্টি হয় । আপনি নিস্চই চান না আপনার ছবি, পাস কিংবা ব্যংকে কত টাকা আছে তা অন্য কেউ দেখে ফেলুক । আমি চাইনা।
তো ইন্টারনেটে যে এইসব তথ্য পাঠাচ্ছেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে , যেন প্রাপক ছাড়া আর কেউ না দেখে তার জন্য বানানো হইসে Encryption ।
তো এই Encryption এ আপনার পাঠানো ছবি, মেসেজ ভিডিও সব একটা কোড ল্যাঙ্গুয়েজে কনভার্ট করা হয়।
যেমনঃ I love you একে এনক্রিপশন করে পাঠালো হিজিবিজবিজ বিহিবিজবিজ । যে এইটার আসল প্রাপক তার কাছেই শুধু এইটা I Loe you বাকিদের কাছে এটা হিজি বিজ বিজ হিজি বিজ বিজ। কারন যে আসল প্রাপক তার কাছেই এই এনক্রিপশন খোলার চাবি আছে।
বুঝা গেল জিনিষটা???

কিভাবে কাজ করে এই Encryption ?

কোন ডাটাকে Encrypt ও ডিক্রিপট করতে দুইটা জিনিষের প্রয়োজন হয়। Public Key আর Private কি। এই দুই জিনিষ কিভাবে কাজ করে সেইটা এখন ব্যখা করতেসি দারান।

একজন ইউজার “তুসিন ভাই” কাছে দুইটা Public Key এবং Private key দুইটাই থাকে। কিন্তু সে শুধুমাত্র Public Key সবার কাছে উন্মুক্ত করে দিয়ে বলে যে তোমরা আমার কাছে যা পাঠাইবা তা এই পাবলিক কি দিয়ে এনক্রিপ্ট করে পাঠাও। এই Public Key দিয়ে যত মেসেজ ভিডিও ছবি এনক্রিপ্ট করা হবে তার সবগুলো তুসিন ভাই শুধু মাত্র তার কাছে থাকা Private কি টি দিয়েই খুলতে পারবেন।
মানে পাবলিক কি জিনিষটা হইলো একটা খোলা তালার মতো। যেইটা দিয়ে একবার লক করলে সেই তালার চাবি মানে Private key ছাড়া আর কিছু দিয়ে খোলা অসম্ভব।

ফেসবুক মেসেন্জার এনক্রিপ্টেড!

অবাক হবার কিছু নেই, সত্যি Facebook Messenge এনক্রিপটেড। তবে এটা এন্ড টু এন্ড না। মানে তালা চাবি আপনারর কাছে থাকেনা। আপনার কাছে থাকে শুধু তালা। তাহলে চাবি কই থাকে ?
চলুন দেখে নেই ফেসবুক মেসেন্জার এনক্রিপশন কিভাবে কাজ করে।

  1. প্রথমে যে মেসেজ পাঠাবে সে Facebook Server এর সাথে একটি সিকিউর কানেকশন তৈরি করে।
  2. তারপর মেসেন্জার থেকে Public Key দিয়ে মেসেজ এনক্রিপ্ট করে মেসেজ পাঠায়। এই মেসেজ এখন পড়তে পারবে শুধু যার কাছে এই পাবলিক কি এর প্রাইভেট কি আছে শুধু সেই।
  3. যেহেতু সে ফেসবুকে পাবলিক কি ইউজ করে এনক্রিপ্ট করেছে তাই এখন ফেসবুক এই মেসেজ ডিক্রিপ্ট করে তা সার্ভারে রাখে।
  4. তারপর ফেসবুক আবার সেই মেসেজ সিকিউর কানেকশনের মাধ্যমে রিসিভার কে পাঠায়।

তো এখানে ঘটনা হল আপনি যাই মেসেজ করেন না কেন, ফেসবুক সেটা পড়ে, তারপর পাঠায় 😉 এইবার চিন্তা করেন মার্ক কাকু কি জানে 😉

এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন কিভাবে কাজ করে?


এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনে আপনার আর যাকে মেসেজ পাঠাবেন দুই জনের কাছে একটি করে Public Key আর একটি প্রাইভেট কি থাকে।
ধরেন তুসিন ভাই আমাকে মেসেজ করবে End To End Encrryption এ। তো ওনি যে মেসেজ আমাকে পাঠাবে সেটা আমার Public Key দিয়ে ওনি Encrypt করে দিবেন। কারন পাবলিক কি তো সবাই জানে। কিন্তু তার চাবি শুধু আমারর কাছে।
তো ওনার পাঠানো মেসেজ শুধু আমি পড়তে পারব। না ফেসবুক, না গুগল না CIA না FBI । বুঝা গেল ব্যাপার টা ?

তো টাটা ? কেমন ?

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here