ক্ল্যাশ অব ক্ল্যানস’ ঘরানার স্ট্র্যাটেজিনির্ভর গেইম বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই তুমুল জনপ্রিয়। তবে আমাদের দেশের কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ট্র্যাটেজি গেইম তৈরি হয়নি বললেই চলে। ‘মুক্তিক্যাম্প’ এই আফসোস দূর করবে। মাইন্ড ফিশারের আগের গেইম ‘হিরোজ অব ৭১’-এর কাহিনি ঘুরেছে নির্দিষ্ট একটি এলাকাকে কেন্দ্র করে। তাই স্ট্র্যাটেজির ছোঁয়া ছিল কম। তবে মুক্তিক্যাম্প গেইমে সামগ্রিক মুক্তিযুদ্ধের চিত্র তুলে আনা হয়েছে। ফলে পুরো দেশের মানুষই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে খেলতে পারে গেইমটি।

মাইন্ড ফিশার গেইমসের প্রধান নির্বাহী জামিল রশিদ বলেন, সাধারণত আমরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন কোনো কিছু করি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যুদ্ধটাকে প্রাধান্য দিই। এর বাইরেও কিন্তু আরো অনেকভাবে হাজার হাজার মানুষের অবদান রয়েছে। মুক্তিক্যাম্পে সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

কাহিনি


শুরুতেই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পরিত্যক্ত একটি গ্রাম। সেখানে কয়েকজন মুক্তিকামী বাঙালি একটি ক্যাম্প বানাতে কঠোর পরিশ্রম করছেন। ক্যাম্পে আশপাশের গ্রামের লোকজনকে যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার থেকে শুরু করে রোগমুক্তির জন্য ওষুধ সবই মজুদ করা হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে পাকিস্তানি হানাদার নিধনের পরিকল্পনা। এতে মর্টার মোস্তাক, পাপন বিশ্বাস, অনিলা আবিদসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার দেখা মিলবে। গেইমাররা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে এনে প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন। যোদ্ধারা দক্ষ হলে তাদের পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে গেইমটি অফলাইনে খেলা যাবে। আগামী বছর এপ্রিল পর্যন্ত এই অফলাইন সংস্করণে দেওয়া হবে বিভিন্ন আপডেট। যুক্ত হবে নতুন লেভেল। এপ্রিল মাসেই অনলাইন সংস্করণ বাজারে আসার সম্ভাবনা আছে।

কোথায় খেলা যাবে

গেইমটির লক্ষ্য বাংলাদেশের ব্যবহারকারী। দেশের বেশির ভাগ মানুষ অ্যানড্রয়েডচালিত ডিভাইস ব্যবহার করেন। তাই ‘হিরোজ অব ৭১’-এর মতো গেইমটি শুধু অ্যানড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের জন্য আনা হচ্ছে। খেলতে হলে কমপক্ষে ১.৫ গিগাবাইট র‌্যামের স্মার্টফোন প্রয়োজন হবে। অ্যানড্রয়েড ৪.০২ কিটক্যাট থেকে শুরু করে সর্বশেষ অ্যানড্রয়েড ওরিওতে সমর্থন করবে। কেন শুধু অ্যানড্রয়েড? এমন প্রশ্নে জামিল রশিদ বলেন, ‘আমরা মাত্র ৩০ জনের দল। এই লোকবল নিয়ে একাধিক প্ল্যাটফর্মে কাজ না করে একদিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে চেয়েছি। তাই আপাতত অ্যানড্রয়েডেই গেইমটি আনা হচ্ছে।’ এই ঠিকানা থেকে ডাউনলোড করে খেলা যাবে গেইমটি।

পেছনে যাঁরা

২০১৩ সাল থেকে গেইম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ছোট একটি দল তৈরি করে ‘পোর্টব্লিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন মাশা মুস্তাকিম। এখান থেকেই তৈরি হয় ‘হিরোজ অব ৭১’। এদিকে জামিল রশিদ ‘গেইম ওভার স্টুডিও’ নামে চালাচ্ছিলেন আরেক গেইমিং প্রতিষ্ঠান। এরপর পোর্টব্লিস আর ‘গেইম ওভার স্টুডিও’ এক হয়ে নাম নেয় ‘মাইন্ড ফিশার গেইমস’। এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী হিসেবে আছেন জামিল রশিদ ও প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা মুস্তাকিম।

দুটি কম্পানি একত্র হওয়ার কারণে লোকবল বেড়েছে। মুক্তিক্যাম্প গেইমটি তৈরি আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। গ্রাফিকস ডিজাইনার, প্রগ্রামারসহ মাইন্ড ফিশার গেইমসে মোট ৩০ জন দক্ষ কৌশলী কাজ করেছেন। ‘হিরোজ অব ৭১’ গুগল প্লেস্টোর থেকে ডাউনলোড হয়েছিল ৬০ লাখ বারের মতো, যার ৪৫-৫৫ শতাংশই বিদেশি।

 

আমার এই লেখাটি পূর্বে প্রকাশ হয়েছিল ২৭ মে ২০১৮ সাল শনিবার কালের কন্ঠে আপনি যদি প্রযুক্তি ভালোবাসেন তাহলে আমার এই পেইজটিতে লাইক দিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়া আমার ইউটিউব চ‍্যানেলে সাবক্রাইব করে রাখতে পারেন।

 

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here