এই সপ্তাহে পড়ে শেষ করলাম সত‍্যজিৎ রায়ের লেখা “একেই বলে শুটিং” বইটি। প্রতি সপ্তাহে একটি বই পড়ার এটি ছিল দ্বিতীয় সপ্তাহ। এই আগে সপ্তাহে পড়েছিলাম ইয়াসমীন হকের সাস্টে ২২ বছর বইটি। যান্ত্রিক সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বই পড়ার হার কমে যাচ্ছে আমার। একটা সময় আমি কত কত বই পড়তাম। বই না পড়লে যেন আমার পেটে ভাত হজম হতো না। কিন্তু সময়ের সাথে কাজের প্রেসারের যেন তা হয়ে উঠছে না। তাই পুরাতন অভ‍্যাসটাকে ডিজিটাল লাইফের যেন হারিযে না যায় সেই চেষ্টা চলছে।

আমার প্রিয় লেখকদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সত‍্যজিৎ রায়। শুধু কি প্রিয় লেখক? তিনি আমার প্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালকও। চমৎকার সব সিনেমা তৈরি করেছিলেন তিনি। সেই সিনেমা তৈরির পেছনের নানা গল্প উঠে এসেছে ‘একই বলে শুটিং’ বইতে। একটি একটি আত্নজীবনী টাইপের বই বলা যায়। সেখানে লেখক তার জীবনের জীবনের কিছু অধ‍্যায় তুলে ধরেছেন।

কোন মুভি আমরা ১-২ ঘন্টায় কত সহজেই দেখি। কিন্তু এই পেছনে যে কি পরিমান শ্রম দিতে হয় তা হয়ত অনেকেই  জানেন না। বইটিতে সত‍্যজিৎ সেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

সত‍্যিজিৎ রায় বইয়ের ভূমিকায় লেখেন, গত পঁচিশ বছরে আমাকে ছবির শুটিংয়ের জন‍্য ভারতবর্ষের নানান জায়গায় যেতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঘোরাঘুরি হয়েছে তিনটে ছবিতে গুপি গাইন বাঘা বাইন, সোনার কেল্লা, আর জয় বাব ফেলুনাথ। বীরভূমের গ্রাম, বেনারসের অলিগলি আর ঘাট, সুদূর পশ্চিম রাজস্থানের মরু অঞ্চল, সিমলার বরফের পাহাড় ইত‍্যাদি বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করতে গিয়ে আমাদের যে অদ্ভূত ঘটনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তারই কয়েকটার কথা বলা হয়েছে এই বইতে। এই ধরনের ঘটনা ঘটে বলেই অনেক সময় মেহনতটা আর গায়ে লাগে না। আর বাধা যে সব আসে, সেগুলো অতিক্রম করে কাজটা যদি ঠিক মত উৎরে যায় তাহলে ত আর কথাই নেই।

চলচ্চিত্র দেখতে পছন্দ করলে বইটি পড়ে দেখতে পারেন।

এক নজরে
বইয়ের নাম: একেই বলে শুটিং
লেখক:  সত‍্যজিৎ রায়
প্রকাশনী: নওরোজ কিতাবিস্তান
প্রকাশ: ১৯৮৮
পৃষ্ঠা: ৭৯
মূল‍্য: ১৩০

অনলাইনে কেনার লিংক  


আপনি যদি বই পড়তে ভালোবাসেন তাহলে
"আমরা যারা বই পড়ি" পেইজটি লাইক করতে পারেন। নতুন বা আপনার পড়া বই সম্পর্কে শেয়ার করতে পারেন এই গ্রুপে

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here