কেমন আছেন?
ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?
জ্বি ভালো আছি। আচ্ছা আপনার পরিবারের প্রায় সবাই লেখক। আপনি কি কখনো কোন বই লিখবেন না?
আমার প্রশ্ন শুনে তিনি মৃদু হেসে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, পরিবারে থাকা লেখকদের বই পড়ার জন‍্য পরিবারে একজন পাঠক থাকতে হয়। আমি হলাম সেই পাঠক। আপাততো বই লেখার ইচ্ছা নেই। তবে হয়ত লিখতেও পারি কোন এক সময়।

উপরের কথোপকথনটি আমার ও ইয়াসমীন হকের। তিনি সাষ্টের শিক্ষক এবং আমার একজন প্রিয় মানুষ ও লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের সহধর্মীনি। কোন এক শিশু কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেসের ওনার সাথে আমার দেখা হয়। সালটি আমার মনে নেই তবে ২০১৩ সাল হওয়ার সম্ভবনা বেশি।

সেথেকে আমি অপেক্ষা করছিলাম হয়ত ইয়াসমীন হক বই লিখবেন। সেই অপেক্ষার পাল্লা শেষ হল ২০১৭ সালে। সেই বছর তাঁর লেখা "সাস্টে ২২ বছর" নামে বইটি প্রকাশ হয়। এটি আত্নজীবনী টাইপের বই। ইদানিং গল্প উপন‍্যাস থেকে আমার এই ধরনের বই পড়তে বেশি ভালো লাগে।

সাস্টের শিক্ষকতা জীবনকে নিপুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ‍্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কতটা ভালোবাসলে আমেরিকায় আরাম আয়েশের জীবন ত‍্যাগ করে সিলেটে ছিলেন। বিশ্ববিদ‍্যালয়ের নানা নোংরা রাজনীতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে এতে। কয়েকবার বোমার আক্রমণ, হত‍্যার হুমকির পরেও কিভাবে ওনি ও মুহাম্মদ জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ‍্যালয়টিতে ছিলেন তা আমাকে অবাক করেছে।

ছাত্রলীগ যখন শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলেছিলেন তখন প্রচন্ড কষ্ট পান ইয়াসমীন হক। তিনি বইটিতে লিখেন, "সেখানে এমন কোন সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন না যাকে ছাত্রলীগের ছেলেরা টানা হ‍্যাচড়া করেনি বা ধাক্কা দেয়নি কিংবা ভিড়ের ভেতরে লাথি দেয়নি। জাফর ইকবাল কখনো এধরনের জায়গায় যেত না এবং কখনোই আমাদের সঙ্গে প্রতিবাদে অংশ নিত না। ওইদিন যে যেহেতু জানত যে ছাত্রলীগের আক্রমণ করবে, তাই সে আমাকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিল। কাজেই সে আর ঘরে বসে থাকতে পারেনি। সে আমাদের সঙ্গে গিয়ে কাছাকাছি ফ্ল‍্যাগে পোলের নিচে বসে রইলো। প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল আর যে সারাক্ষণ বৃষ্টিতে বোকার মতো বসে থাকল।

বইটি পড়ার সময় আমি যেন সাস্টের প্রতিটি রুম, ল‍্যাব, মাঠ, গোলচত্বর দেখছিলাম। যদিও সাস্টে কখনো যাইনি আমি। তবে বইটি পরার ইচ্ছা জাগতে সাস্টের ঘুরতে যাওয়ার জ‍ন‍্য।

বইটিতে হুয়ায়ূন আহমদের স্মৃতিচারণও করেছেন ইয়াসমীন হক। তিনি লিখেন, "হুমায়ূন আহমদের সঙ্গে যখন প্রথম পরিচয় হয়েছিল সেই ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। সেটা ছিল আমেরিকাতে সিয়াটলের গ্রে হাউন্ড বাস স্টপে। সময়টা ছিল আগস্ট মাসে, ১৯৭৭ সাল। তখনো জাফরের সঙ্গে বিয়ে হয়নি।আমি তার সঙ্গে গল্প করে করে তাকে সবকিছু ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলাম। তাঁর কাছ থেকে আমি তার স্ত্রী গুলতেকিন খানের অনেক গল্প শুনেছিলাম। আমরা সিয়াটলের শহরে ঘুরে বেড়াতাম এবং যেহেতু কেনাকাটা করার মত ডলার নেই তাই জানালা দিয়ে উইন্ডো শপিং করতাম।

বিশ্ববিদ‍্যালয়ের একজন শিক্ষকের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে বইটি অবশ‍্যই পাঠ‍্য।

বইয়ের নাম: সাস্টে ২২ বছর
লেখক: ইয়াসমীন হক
প্রকাশনী:তাম্রলিপি
প্রকাশ:২০১৭
পৃষ্ঠা:২১৭
মূল‍্য: ৩৩৫ টাকা
অনলাইনে কেনার লিংক

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যান্ত্রিক জীবনে বই পড়ার হার কমে যাচ্ছিলো। তাই প্রতি সপ্তাহে মিনিমাম একটা বই পড়ার চ‍্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে বইটি পড়ে শেষ করলাম। এই সপ্তাহে পড়ব  "একেই বলে শুটিং- সত‍্যজিৎ রায়"। বইটি সম্পর্কে জানাব পড়া শেষে।

আপনি যদি বই পড়তে ভালোবাসেন তাহলে "আমরা যারা বই পড়ি" পেইজটি লাইক করতে পারেন। নতুন বা আপনার পড়া বই সম্পর্কে শেয়ার করতে পারেন এই গ্রুপে

 

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here