বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিগত ভাবে বহু এগিয়ে গিয়েছে। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এসেছে ডিজিটালের ছোঁয়া। ক্লাস রুম থেকে শুরু করে কপোরেট চাকরির ক্ষেত্রে প্রজেক্ট বা রিপোট উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এই কাজটি করতে বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার হলো মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট।

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট নিয়ে সিরিজের এটি হলো তৃতীয় পর্ব।  আগের পর্বগুলো হলো:
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (পর্ব ১) – পাওয়ার পয়েন্ট কি?
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (পর্ব ২) – রিবনের ব্যবহার

বিরনের হোম ট্যাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানব তৃতীয় টিউটোইয়াল। প্রেজেন্টেশনে তথ্য সংযুক্ত করার আগে আমরা দেখে নেই স্লাইড নিয়ে কিছু বেসিক ধারনা। যেমন- নতুন প্রেজেন্টেশন তৈরি করা, নতুন স্লাইড সংযোজন করা, লেআউট বাছাই করা, ডকুমেন্ট কপি ও পেস্ট করা, বুলেটের ব্যবহার ইত্যাদি।

প্রথমত, আমরা হোম ট্যাব এর কাজ সম্পর্কে জানবো। হোম ট্যাব হচ্ছে প্রেজেন্টেশন তৈরির মেইন ফিচার। এর সর্বপ্রথমে রয়েছে Clipboard, পরবর্তীতে রয়েছে Slides, Font, Paragraph, Drawing এবং সর্বশেষে রয়েছে Editing। আজকের টিউটোরিয়াল থেকে আমরা হোম ট্যাবের এই কমান্ডের ব্যবহার সম্পর্কে অবগত হব।

কপি ও পেস্ট

যদি কোন লেখা আমরা পুনরায় আরেক জায়গায় সংযোজন করতে চাই, তবে সে ক্ষেত্রে আমরা কপি ও পেস্ট ব্যবহার করে থাকি। পাওয়ার পয়েন্টে Home ট্যাবের প্রথমেই রয়েছে কপি ও পেস্ট। প্রথমত, যে তথ্যটি আমরা পুনরায় ব্যবহার করতে ইচ্ছুক, তা আমরা নির্বাচন করি।

এরপর Clipboard গ্রুপ্রের Copy কমান্ডে ক্লিক করি। আমার ডকুমেন্টটি কপি হয়ে গেল। এখন আমরা যেখানে ডকুমেন্টটি সংযোজন করতে চাই, সেখানে আমার মাউসের কার্সরটি রেখে Clipboard গ্রুপ্রের Paste কমান্ডে ক্লিক করলেই লেখাটি পেস্ট হয়ে যাবে। এছাড়াও কীবোর্ডের Ctrl+C ব্যবহার করে আমরা বাছাইকৃত টেক্সটগুলো কপি এবং কীবোর্ডের Ctrl+V প্রেস করে তা যথাস্থানে পেস্ট করতে পারি।

কাট ও পেস্ট

যদি কোন লেখা আমরা এক জায়গা থেকে সরিয়ে আরেক জায়গায় সংযোজন করতে চাই, সে ক্ষেত্রে আমরা কাট ও পেস্ট ব্যবহার করে থাকি। পাওয়ার পয়েন্টে Home ট্যাবের প্রথমেই রয়েছে কপি ও পেস্টের সাথে রয়েছে কাট অপশনও। যে তথ্যটি আমরা সরিয়ে আরেক জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, প্রথমত তা আমরা নির্বাচন করি। এরপর Clipboard গ্রুপ্রের Cut কমান্ডে ক্লিক করি।

আমাদের ডকুমেন্টটি সেখান থেকে কাট হয়ে গেল কিংবা বলা যায় সেখান থেকে সরে গেল। এখন আমরা যেখানে ডকুমেন্টটি সংযোজন করতে চাই সেখানে আমার মাউসের কার্সরটি রেখে Clipboard গ্রুপ্রের Paste কমান্ডে ক্লিক করলেই আমাদের তথ্যটি সেখানে সংযুক্ত হয়ে যাবে। এছাড়াও কীবোর্ডের Ctrl+X ব্যবহার করে আমরা বাছাইকৃত টেক্সটগুলো কাট এবং কীবোর্ডের Ctrl+V প্রেস করে তা যথাস্থানে পেস্ট করতে পারি।

নতুন স্লাইড সংযোজন

প্রেজেন্টেশনে নতুন স্লাইড অ্যাড করা যায় তিনভাবে। হোম বাটনের New Slide অপশনে ক্লিক করে। কীবোর্ডে Ctrl+M ক্লিক করে।

পাওয়ার পয়েন্ট চালু করলে যে নতুন একটি স্লাইড প্রদর্শিত হয়, ছবি অনুসারে ওই স্লাইডে রাইট ক্লিক করলে আরও কিছু অপশন আসে। সেখানে New Slide লেখা অপশনে ক্লিক করলেও নতুন স্লাইড অ্যাড হয়ে যেতে পারে।

 Layout সংযোজন, পরিবর্তন এবং ব্যবহার

নতুন স্লাইডের Layout, প্রেজেন্টেশনের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যেতে পারে। Layout অপশনে গেলে ৯ ধরনের লেআউট অপশন আসবে। এছাড়াও New Slide লেখা অপশনে ক্লিক করলেও পছন্দমতো Layout বাছাই করে নতুন স্লাইড অ্যাড করা সম্ভব।

পাওয়ার পয়েন্ট ওপেন করলে ডিফল্ট লেআউটসহ একটি স্লাইড আসে। এছাড়াও নতুন স্লাইড সংযুক্ত করার পরও লেয়াউট পরিবর্তন করা যায়। নিম্ন চিত্রে Title and Content লেআউট ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ চাইলে পূর্বের স্লাইডেরও লেআউট পরিবর্তন করতে পারবে।

Click to add title এ ক্লিক করে আপনি আপনার কন্টেন এর Title/Heading দিতে পারবেন।
Click to add text এ আপনি আপনার কীবোর্ড ইনপুটের সাহায্যে তথ্য সংযুক্ত করতে পারবেন।

এছাড়াও বক্সের মাঝে ছোট ছোট কয়েকটি আইকন রয়েছে। যেগুলোর সাহায্যে আপনি প্রেজেন্টেশনে গ্রাফ, টেবিল, ভিডিও ক্লিপ কিংবা ছবি সংযুক্ত করতে পারবেন। ইন্টারনেট সংযুক্ত থাকলে আপনি online pictures আইকনটির সাহায্যে অনলাইন থেকে ছবিও সংযুক্ত করতে পারবেন।

ফন্ট ও সাইজ পরিবর্তন

পাওয়ার পয়েন্টে টেক্সট নিয়ে কাজ করার জন্য এবার কিছু বেসিক কমান্ডসমূহ জেনে নেই। প্রেজেন্টশনকে আকর্ষনীয় করতে আমরা বিভিন্ন টেক্সট বিভিন্ন ফন্ট এবং সাইজের করে থাকি।

এছাড়াও আমরা টাইটেল কে বোল্ড করি, ফোকাস করার জন্য নানা কালার ব্যবহার করি, কোন বিশিষ্ট ব্যাক্তির উক্তিতে আমরা ইটালিক কমান্ড ব্যবহার করি কিংবা কোন বিশেষ লাইনের নিচে আন্ডারলাইন করে থাকি। প্রতিটি কমান্ড আমরা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরিতে আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করি। তাই আমরা এই কমান্ড গুলো ব্যবহার করার সহজ কিছু নিয়াম জেনে নেই।

ফন্ট স্টাইল এবং সাইজ

Home ট্যাবের Font Box এর ড্রপ ডাউন arrow key ক্লিক করলে বিভিন্ন ধরনের Fonts প্রদর্শিত হবে। আপনি আপনার পছন্দমত ফন্ট বাছাই করে নিতে পারবেন। এর পাশে রয়েছে Font size box। একই ভাবে Font size box এর ড্রপ ডাউন arrow key ক্লিক করলে ফন্ট সাইজের ড্রপ মেন্যু চলে আসবে।

যেই টেক্সটের ফন্ট কিংবা সাইজ আপনি পরিবর্তন করতে চান, ওই টেক্সট টুকু বাছাই করে এরপর পছন্দমত ফন্ট ও সাইজ দিয়ে দিন। Font Style এবং Font Size এর উপর মাউস পয়েন্টার মুভ করলে লেখার উপর সাইজ ও ফন্ট লাইভ দেখা যাবে। এতে আপনি দেখে সুবিধা এবং পছন্দমাফিক লেখার ফন্ট ও সাইজ প্রয়োগ করতে পারবেন। এছাড়াও আরেকটি শর্টকাট রয়েছে ফন্ট সাইজ ছোট- বড় করার জন্য। আপনি কীবোর্ডের Ctrl+[ চেপে লেখা ছোট এবং Ctrl+] চেপে লেখার সাইজ বড় করতে পারবেন।

Bold, Italic and Underline

যে টেক্সটগুলো কে বোল্ড, ইটালিক কিংবা আন্ডারলাইন করতে চান তা আগে সিলেক্ট করি। এরপর Home ট্যাবের Bold, Italic and Underline কমান্ড ক্লিক করি। বাদ দিতে চাইলে আরেকবার ক্লিক করলেই টেক্সটে নির্বাচিত কমান্ড বাদ হয়ে যাবে।

এছাড়াও কীবোর্ডের দ্বারা অতি সহজেই এই কমান্ডগুলো প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রথমে, কমান্ড প্রয়োগকৃত টেক্সট নির্বাচিত করে বোল্ড করার জন্য কীবোর্ডের Ctrl+B চাপুন, ইটালিক করার জন্য Ctrl+I চাপুন, আন্ডারলাইন করার জন্য Crtl+U চাপুন। আর বাতিল করতে চাইলে লেখা সিলেক্ট করে পুনরায় যথাক্রমে Ctrl+B, Ctrl+I অথবা Crtl+U ক্লিক করুন।

 কালার পরিবর্তন

হোম ট্যাবে যেই Font Color Box কমান্ডে ক্লিক করলে অনেক রকমের কালার চলে আসবে। আপনি আপনার টাইটেলের জন্য ভিন্ন এবং মেইন টেক্সটের জন্য ভিন্ন কালার ব্যবহার করতে পারবেন। কালারগুলোর উপর মাউস পয়েন্টার মুভ করলে নির্বাচিত লেখার উপর লাইভ কালার গুলো দেখা যাবে। এছাড়াও more colors অপশনে গিয়েও নিজের পছন্দমতো কালার বাছাই করতে পারেন।

এছাড়াও অন্যান্য যেসকল কমান্ড রয়েছে সেগুলোর কাজ সম্পর্কে নিম্নে ছবিসহ দেয়া হলঃ
Increase Font Size: টেক্সাট সিলেক্ট করার পর এই কমান্ড ক্লিক করলে নির্বাচিত টেক্সটের ফন্টের সাইজ বাড়ানো যাবে। এছাড়াও শর্টকাট হিসেবে কীবোর্ডের Ctrl+Shift+> একসাথে চাপ দিলে ফন্টের সাইজ বড় করা যাবে।

Decrease Font Size: টেক্সাট সিলেক্ট করার পর এই কমান্ড ক্লিক করলে নির্বাচিত টেক্সটের ফন্টের সাইজ কমানো যাবে। এছাড়াও শর্টকাট হিসেবে কীবোর্ডের Ctrl+Shift+< ক্লিক করা যেতে পারে।

Clear All Formatting: টেক্সাট সিলেক্ট করার পর এই কমান্ড ক্লিক করলে নির্বাচিত টেক্সটে পূর্বে যত কমান্ড প্রয়োগ করা হয়েছে তা বাতিল করা এই কমান্ডের কাজ। সকল প্রকার প্রয়োগকৃত কমান্ড রিমুভ হয়ে পূর্বের unformatted text এ পরিবর্তিত হয়ে যায়।

Strikethrough: নির্বাচিত টেক্সটের মাঝে একটা লাইন টেনে দেয় এই কমান্ড।

Text Shadow: এ কমান্ডের সাহায্যে নির্বাচিত টেক্সটকে ছায়া দেয়া হয়।

Change Case: নির্বাচিত টেক্সটকে বিভিন্ন ফরমেটে পরিবর্তন করা যায়। Change Case এর ড্রপ ডাউনে ক্লিক করলে কিছু অপশন আশে, যার সাহায্যে নির্বাচিত টেক্সটসমূহ কে ছোট হাতের, বড় হাতের ইত্যাদি ফরমেটে পরিবর্তিত করা যায়।

Character Spacing: নির্বাচিত টেক্সটের মাঝে ইস্পেসিং পরিবর্তন করা যায়।

 

টেক্সট এলাইনমেন্ট 

টেক্সট এলাই্নমেন্ট করার জন্য মাইক্রোসফট পাওয়র পয়েন্টের Home ট্যাবের Paragraph গ্রুপে ৪টি কমান্ড রয়েছে। টেক্সটসমূহ নির্বাচন করে এর যেকোনো একটি Alignment অপশন ক্লিক করলেই হয়ে যাবে। এখন বলা যাক কোন অপশন কোন কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এদের ব্যবহারে কিছু শর্টকাট।

  • Align Left : টেক্সটসমূহ কে বাম মার্জিন বরাবর রাখার জন্য Align Feft কমান্ড ব্যবহার করা হয়। যতটুকু টেক্সট Align করতে চান আগে তা সিলেক্ট করে এরপর Align Left কমান্ড ক্লিক করলেই আপনার টেক্সট বাম Align হয়ে যাবে। এছাড়াও কীবোর্ডের Ctrl+L কী ব্যবহার করেও নির্বাচিত টেক্সট সমূহকে বাম Align করা যায়। 

 

  • Align Center : টেক্সটসমূহ কে ডান ও বাম মার্জিনের মাঝামাঝি রাখার জন্য Center কমান্ড ব্যবহার করা হয়। যতটুকু টেক্সট Align করতে চান আগে তা সিলেক্ট করে এরপর Align Center কমান্ড ক্লিক করলেই আপনার টেক্সট মাঝ বরাবর Align হয়ে যাবে। এছাড়াও কীবোর্ডের Ctrl+E কী ব্যবহার করেও নির্বাচিত টেক্সট সমূহকে Center করা যায়।

 

  • Align Right : টেক্সটসমূহ কে ডান মার্জিন বরাবর রাখার জন্য Align Right কমান্ড ব্যবহার করা হয়। যতটুকু টেক্সট Align করতে চান আগে তা সিলেক্ট করে এরপর Align Right কমান্ড ক্লিক করলেই আপনার টেক্সট ডান Align হয়ে যাবে। এছাড়াও কীবোর্ডের Ctrl+R কী ব্যবহার করেও নির্বাচিত টেক্সট সমূহকে ডান Align করা যায়।

 

  • Justify : এটি মূলত প্যারাগ্রাফের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কোনো নির্বাচিত টেক্সটের ডান-বাম মার্জিন বরাবর সমান Align করতে Justify ব্যবহার করা হয়।  যতটুকু টেক্সট Align করতে চান আগে তা সিলেক্ট করে এরপর Justify কমান্ড ক্লিক করলেই আপনার টেক্সট ডান-বাম দুই দিক দিয়েই Align হয়ে যাবে।
  • Align Text: আপনার টেক্সট কে উপরে নিচে অথবা মাঝেও Align করা যেতে পারে। এর জন্য আপনি আপনার টেক্সট টুকু সিলেক্ট করে Align Text কমান্ডের ড্রপ ডাউনে ক্লিক করলে Top, Middle, Bottom সহ more options আসে, আপনি আপনার পছন্দমত একটিতে ক্লিক করলেই হয়ে গেল। 

 

  • Bullets and Numbering: প্রেজেন্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় পয়েন্ট করে বা লিস্ট করে বুঝানোর জন্য বুলেট বা নম্বর ব্যবহার করে থাকি। Home ট্যাবে Paragraph group এর প্রথমেই রয়েছে বুলেট।এর পাশের ড্রপ ডাউন arrow ক্লিক করলে অনেক রকমের বুলেট পয়েন্ট তৈরির অপশন ও রয়েছে। আপনি আপনার পছন্দমতো বুলেট বাছাই করে পয়েন্টগুলোকে লিস্ট আকারে সাজিয়ে লিখতে পারবেন। বুলেট এর ঠিক পাশেই Numbering এর অবস্থান। ঠিক একই উপায়ে আপনি নম্বর ব্যবহার করে প্রেজেন্টেশনের তথ্য গুলো উপস্থাপন করতে পারেন। 

 

টেক্সট ডিলিট/রিমুভ 

 

স্লাইডের টেক্সট দুই ভাবে মুছে ফেলা যায়। টেক্সট সিলেন্ট করে কীবোর্ডের Delete কী ব্যবহার করে এবং কীবোর্ডের Backspace কী ব্যবহার করে।

 

 

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here