বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিগত ভাবে বহু এগিয়ে গিয়েছে। “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এসেছে ডিজিটালের ছোঁয়া। ক্লাস রুম থেকে শুরু করে কপোরেট চাকরির ক্ষেত্রে প্রজেক্ট বা রিপোট উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়। এই কাজটি করতে বহুল ব্যবহৃত সফটওয়্যার হলো মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট।

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট নিয়ে সিরিজের এটি হলো চতুর্থ পর্ব।  আগের পর্বগুলো হলো:
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (পর্ব ১) – পাওয়ার পয়েন্ট কি?
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (পর্ব ২) – রিবনের ব্যবহার
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (পর্ব ৩) – হোম ট্যাবের ব্যবহার

আজকে জানব ডিজাইন ট্যাব সম্পর্কে। পাওয়ার পয়েন্টের রিবনে ডিজাইন ট্যাবে রয়েছে নানা ধরনের থিম। থিমগুলো মূলত নির্দিষ্ট কালার, ফন্টস এবং কিছু ইফেক্ট দিয়ে তৈরিকৃত কিছু লেআউট, যা আমরা আমাদের প্রেজেন্টেশনে প্রয়োগ করতে পারি। থিম গুলো পূর্ব থেকেই প্রস্তুত করা থাকে, যার ফলে আমাদের সময় ও পরিশ্রম কিছুটা লাঘব হয়। থিমের ব্যবহার স্লাইডগুলোকে একটু প্রফেশনাল লুক দেয়। ডিজাইন ট্যাবে স্লাইডের Background পরিবর্তনেরও অপশন রয়েছে। যা আমরা আজকের টিউটোরিয়াল থেকে জানতে পারবো।

পাওয়ার পয়েন্ট ওপেন করলেই যেই সাদা Background এবং সাথে Calibri ফন্ট চলে আসে, সেই ডিফল্ট থিমটিকে Office Theme বলা হয়। স্লাইড তৈরি করার আগে পছন্দ অনুযায়ী থিম বাছাই করে নিলে টেক্সট গুলো ইনপুট করতে সহজ হবে। যদি স্লাইডের টেক্সট ইনপুট করার পর কিংবা স্লাইড তৈরি শেষে থিম পরিবর্তন করা হয়, তাহলে প্রয়োগকৃত টেক্সট গুলো যথাস্থানে থাকে নাহ, পরিবর্তিত হয়ে যায়। 

 

থিম প্রয়োগের নিয়ম

 

১. রিবনের Design ট্যাবে ক্লিক করুন।
২. ভিন্ন ভিন্ন Theme চলে আসবে।
৩. Theme এর ড্রপডাউন arrow ক্লিক করলে আরও বিল্ট-ইন Themes চলে আসবে। প্রতিটি থিমের উপর মাউস পয়েন্টার রাখলে থিমগুলো নামসহ স্লাইডে লাইভ দেখা যাবে। আপনি আপনার পছন্দ থিমে ক্লিক করলেই আপনার স্লাইড ওই থিম অনুসারে তৈরি হয়ে যাবে।

৪. এছাড়াও পাশের বক্সের ড্রপডাউন arrow ক্লিক করলে থিমের মধ্যে কালার, ফন্ট কিংবা ইফেক্ট পরিবর্তনের অপশন চলে আসবে। যার মাধ্যমে থিমের কালার-ফন্ট সহ Background Style-ও পরিবর্তন কর যায়।
৫. Colors এ ক্লিক করলে বিভিন্ন রং এর সাথে নিচে Customized Colors কমান্ড আসে।  যার মাধ্যমে নিজের পছন্দমাফিক নতুন করে থিম তৈরি করা সম্ভব। নতুন কালার থিমের জন্য নিচে Name: ঘরে গিয়ে একটা নাম দিয়ে Save এ ক্লিক করলেই হয়ে গেল। 

 স্লাইডার সাইজ( Slide Size)

 

Design ট্যাবের ডান দিকে Slide Size অবস্থিত। এর মাধ্যমে স্লাইডের সাইজ পরিবর্তন করা সম্ভব। 

Slide Size কমান্ডে ক্লিক করলে Standard এবং Widescreen দুটো অপশন আসে। আপনি আপনার রিকয়রমেন্ট অনুসারে একটিতে ক্লিক করলেই স্লাইড ওই সাইজের হয়ে যাবে। এই কমান্ডের ব্যবহার স্লাইড তৈরির শুরুতে কিংবা শেষে যেকোনো সময়ে করা যেতে পারে। 

এছাড়াও অন্য কোনো সাইজের স্লাইড প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এর নিচের কমান্ড CustomSlide Size-এ ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার পর একটা বক্স আসবে। বক্সের ভেতরে স্লাইডের সাইজ পরিবর্তনের ভিন্ন ভিন্ন অপশন রয়েছে।

Slides sized for-এর ড্রপডাউন arrow ক্লিক করলে বিভিন্ন সাইজের নামসহ সাইজের কমান্ড চলে আসবে। সেখান থেকে সিলেক্ট করা যাবে। স্লাইডের Height- Width ইত্যাদি নিচের অপশন থেকে ঠিক করা যাবে। সব বাছাই করার পর OK ক্লিক করলেই স্লাইড ওই সাইজের হয়ে যাবে।  

 ফরম্যাট ব্যাকগ্রাউন্ড (Format Background)

স্লাইড সাইজের পরে আছে Format Background কমান্ড। Format Background কমান্ড ক্লিক করার পরে স্লাইডের ডান পাশে আরও কিছু কমান্ড চলে আসে। কমান্ডগুলোর মাধ্যমে স্লাইডের Background গুলোকে Solid fill, Gradient fill, Picture or Texture fill and Pattern fill দিয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করা যেতে পারে। প্রতিটি স্লাইডের জন্য ভিন্ন ভিন্ন background দেয়া যেতে পারে। অথবা Background এর Format ঠিক করার Apply to all এ ক্লিক করলে সবগুলো স্লাইডে তা apply হয়ে যাবে।

 

 

★ তথ‍্য প্রযুক্তি বা নতুন কোন গ‍্যাজেট সম্পর্কে আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে করুন টেককাল্টের ফেইসবুক গ্রুপে। গ্রুপে জয়েন করতে এখানে ক্লিক করুন

 প্রযুক্তি নিযে নিত‍্যনতুন ভিডিও দেখতে সাবক্রাইব করুণ টেক কাল্টের ইউটিউব চ‍্যানেলে

 

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here