তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান ই-সফটের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হাসান অপু। ছাত্রাবস্থায় মনোযোগী ছিলেন বিভিন্ন আবিষ্কারে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ কয়েকবার পুরস্কৃতও হয়েছিলেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ৪৫টি বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মেলার নির্দেশক ও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর পরিচালক। নাসা আয়োজিত আন্তর্জাতিক স্পেস অ্যাপ চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ পর্বের ৩ বার কনভেনর ছিলেন তিনি।

প্রযুক্তি খাতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে তিনি তৈরি করেছেন বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম। এই ফোরামের আয়োজনে ২১ জুলাই দেশে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্পেস ইনোভেশন সামিট। এই আয়োজন নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন তুসিন আহমেদ

তুসিন আহমেদ : স্পেস ইনোভেশন সামিট কী?

আরিফুল হাসান অপু : এটি একটি তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সম্মেলন। দেশে প্রথমবারের মত স্পেস প্রযুক্তি কিংবা মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে এই ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের অনেক শিক্ষার্থী মহাকাশ বিজ্ঞানী ও এই খাতে কাজ করতে চায়। কিন্তু সঠিক দিক নিদের্শনার অভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। এই সামিটে শিক্ষার্থীরা মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা ও কাজ করতে চাইলে কীভাবে শুরু করবে এমন নানা দিক নির্দেশনা পাবেন।

এছাড়া এতে ৩০ জনকে নিয়ে ন্যানো স্যাটেলাইটের (ক্যান স্যাট) ওপর হাতে-কলমে একটি ওয়ার্কশপ করানো হবে। ব্র্যাক অন্বেষা টিম এটি পরিচালনা করবে। দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে ক্যানস্যাটটি ২০০ ফুট ওপর থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে ভূমিতে নামানোর সময় গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে বিভিন্ন ডাটা নেওয়া হবে।

তুসিন আহমেদ : স্পেস ইনোভেশন সামিটের উদ্দেশ্য কী?

আরিফুল হাসান অপু : ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পৌঁছে গেছে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের এই খাত সম্পর্কে জানানোই এই সামিটের মূল উদেশ্য। আমি চাই কোন এক সময় আমাদের শিক্ষার্থীরাই একটা সময় স্যাটেলাইট তৈরি করবে।

তুসিন আহমেদ : মহাকাশ নিয়ে কাজ করেন এমন সবার স্বপ্ন থাকে নাসায় কাজ করার। এই সম্পর্কে কিছু থাকছে কী সামিটে?

আরিফুল হাসান অপু : দক্ষতা থাকলে যে কেউ নাসাতে কাজ করতে পারবেন। কিভাবে নাসায় কাজ করা যাবে, কী কী যোগ্যতা থাকতে হবে ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে সামিটে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। নাসায় কাজ করতে গেলে কি কি লাগবে তা এই সেমিনারে তুলে ধরা হবে।

তুসিন আহমেদ : সামিটে বক্তা কারা থাকছেন?

আরিফুল হাসান অপু : আমরা চেষ্টা করেছি এই সামিটে স্পেস প্রযুক্তি খাতে কাজ করছে এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের  বক্তা হিসেবে আনতে। বক্তাদের মধ্যে রয়েছেন মেক্স গ্রুপের প্রধান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর, নাসার সাবেক সিস্টেম অ্যাডমিন আজাদুল হক, এমআইটি জিরো ল্যাবের প্রধান মিজানুল চৌধুরী, জিরো গ্র্যাভিটিতে যাওয়া প্রথম বাংলাদেশি এফ আর সরকার, প্রফেসর সাজ্জাদ হুসাইন, ব্র্যাক অন্বেষা টিমের উপদেষ্টা  ড. মোহাম্মাদ খলিলুর রহমানসহ এই দলের আব্দুল্লাহিল কাফি, রায়হানা শামস ইসলাম অন্তরাসহ আরও অনেকে।

তুসিন আহমেদ : কারা এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন?

আরিফুল হাসান অপু : আগামী ২১ জুলাই ঢাকার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সামিটটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে একটি কর্মশালা ও সাতটি টেকনিক্যাল সেমিনার থাকছে।

এছাড়া মহাকাশ গবেষণার যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হবে। প্রযুক্তি ভালোবাসেন এমন যে কেউ এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বিস্তারিত নিয়ম জানা যাবে এই ঠিকানায়

তুসিন আহমেদ : বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরামে অনেক তরুণদের নিয়ে কাজ করছেন আপনি। আপনি দেশের বর্তমানে তরুণদের নিয়ে কতটুকু আশাবাদী?

আরিফুল হাসান অপু : আমাদের দেশে বর্তমানে ৬০ ভাগের বেশি মানুষের বয়স ২৫ এর কম। তাই দেশের ভবিষ্যৎ এই তরুণদের ওপরেই নির্ভর করছে। তাদের নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। সঠিক নির্দেশনা পেলে তারা বহুদূর এগিয়ে যাবে।

তুসিন আহমেদ : আপনি ছাত্র জীবনে আবিষ্কারের দিকে বেশ মনযোগী ছিলেন। পরবর্তীতে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিজের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যুক্ত আছেন অনেক সংগঠনের সঙ্গে। এত কিছুর সমন্বয় করেন কিভাবে?

আরিফুল হাসান অপু :  ছাত্র জীবনে থেকেই উদ্ভাবনী কিছু করতে আমার খুব ভালো লাগতো। ছাত্রাবস্থায় বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে স্কুল-কলেজে অনেক কর্মশালা নিজ উদ্যোগে সফলভাবে করেছি। যা পরবর্তীতে নতুন কিছু করতে আমাকে অনুপ্রাণিত করে এবং সাহস যোগায়। বর্তমানে তাই নতুন কিছু করতে আমার সব সময় ভালো লাগে। ইচ্ছা এবং নিষ্ঠা থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব।

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here