নতুন বছরে নতুন ফ্ল‍্যাগশিপ স্মার্টফোন কিনতে চান? বিদায়ী বছরকে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে নানান ট্রেন্ড চালুর বছর বললে ভুল হবে না। যেমন চলতি স্মার্টফোনের ডিসপ্লের আকৃতি বেড়েছে, ছিল নচ রাখার ট্রেন্ড। ডিসপ্লে বড় হবার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে ডিসপ্লেতেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ক্যামেরা রাখার প্রযুক্তি।

ক্যামেরার ট্রেন্ডে পাকাপোক্ত আসন গেড়েছে ডুয়েল ক্যামেরা। এক ক্যামেরা ট্রেন্ড থেকে বেরিয়ে এসে এখন চলছে ট্রিপল ও কোয়ার্ড ক্যামেরার ফোন। বেড়েছে ক্যামেরায় মেগাপিক্সেলের পরিমাণ। এই সব বিবেচনায় কোন ফ্ল‍্যাগশিপ ফোনটি কিনতে পারেন তুলে ধরা হল।

হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো

চমৎকার ক‍্যামেরার ফোন হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো। ছবি: অ‍্যান্ড্রয়েড অথরেটি

সম্প্রতি ফ্ল্যাগশিপ বাজারে সবচেয়ে আলোচিত ফোনের নাম হুয়াওয়ে মেট ২০ প্রো। বিশেষ করে আকষর্ণীয় ডিজাইন ও চমৎকার ক্যামেরার কারণে ডিভাইসটি গ্রাহক জনপ্রিয়তা পায়। ফোনের ক্যামেরা বিশ্লেষণের ওয়েবসাইট ডিএক্সওমার্কের র‍েটিংয়ে ১০৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ফোনটি।

৬.৩৯ ইঞ্চি ডিসপ্লের ফোনটিতে হুয়াওয়ের নিজস্ব প্রসেসর কিরিন ৯৮০ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে ৪২০০ এমএএইচ ব্যাটারি। অত্যাধুনিক লাইকা ট্রিপল লেন্স ক্যামেরা রয়েছে ফোনটিতে। যার একটি ৪০ মেগাপিক্সেল, একটি ৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো এবং অন্যটি ২০ মেগাপিক্সেলের আলট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স ক্যামেরা। দেশে হ্যান্ডসেটটির মূল্য ৮৯ হাজার ৯৯০ টাকা।

আইফোন ১০এস ম্যাক্স

আইফোন ১০এস ম‍্যাক্স ছবি:অ‍্যাপল ডটকম

সারা বছর প্রযুক্তি প্রেমীরা অপেক্ষায় থাকে নতুন আইফোনের। গেল বছরও তা ব্যতিক্রম হয়নি। অ্যাপল নতুন আইফোন বাজারে এনেছিল। তবে এতে ছিল না আহামরি কোন চমক। ডিজাইন ছিল পূর্বের আইফোন ১০ এর মতই। তবে হার্ডওয়্যারে বেশ পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

আইফোন ১০এস ম‍্যাক্সের ডিভাইসের ডিসপ্লে সাইজ যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮ ও ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি। ৪৫৮ পিপিআই ও এলইডি এইচডিআর ডিসপ্লে রয়েছে এতে। রয়েছে এ১২ বায়োনিক চিপসেটের ৭ ন্যানোমিটারের প্রসেসর। আগের এ১১ চিপ থেকে যা ৩০ শতাংশ উন্নত। এই প্রসেসর অ্যাপলেরই তৈরি।

ডুয়েল ১২ মেগাপিক্সেল ক‍্যামেরার একটি ওয়াইড লেন্স আরেকটি টেলিফটো লেন্স। সেলফি ও ভিডিও চ‍্যাটের জন্য সামনে ৭ মেগাপিক্সেল ক‍্যামেরা রয়েছে। অ‍্যাপলের দাবি, ফ্রন্ট ক‍্যামেরা দিয়ে পূর্বের আইফোন ১০ এর চেয়ে থেকে আরও ভালো মানের প্রোট্রেইট ছবি তোলা যায়।

আইপি৬৮ সার্টিফাইড পানিরোধক সুবিধার ফলে ডিভাইসটি ২ মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট ব‍্যবহার করা সম্ভব। আগের আইফোন থেকে আরও দ্রুত কাজ করে নতুন ফেইস আইডি।

এরবারই প্রথম ডুয়েল সিম সুবিধা দিয়েছে অ্যাপল। ৬৪, ১২৮ ও ৫১২ ইন্টারনাল মেমোরির সংস্করণে পাওয়া ফোনটি। ১০এস ম‍্যাক্সের দাম শুরু ১০৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৯

স‍্যামসাং গ‍্যালাক্সি নোট ৯ ছবি:অ‍্যান্ড্রয়েড অথরেটি

দুই বছর আগে গ্যালাক্সি নোট ৭-এর ব্যাটারি বিস্ফোরণ নিয়ে বিপাকে পড়েছিল স্যামসাং। সেই ঝামেলা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছিল গ্যালাক্সি নোট ৮ দিয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নোট সিরিজের নতুন ফোন নিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে পেয়েছে স্যামসাং। এবার প্রতিষ্ঠান উন্মোচন করেছিল গ্যালাক্সি নোট ৯।

ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৪ ইঞ্চি সুপার অ্যামোলেড কোয়াড এইচডি+ পর্দা। কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসরের নতুন ডিভাইসটি যাতে দ্রুত ঠাণ্ডা হয় তাই এতে ‘ওয়াটার কুলিং’ ফিচার যোগ করেছে স্যামসাং।

এতে আছে ১২ মেগাপিক্সেলের দুইটি ব্যাক ক্যামেরা। ফ্রন্টে দেওয়া হয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। নতুন গ্যালাক্সি নোট ৯-এর স্টাইলাসটিও নতুন করে নকশা করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এতে ব্লুটুথ যোগ করেছে স্যামসাং। এর মাধ্যমে দূর থেকে ছবি তোলা বা ইউটিউব ভিডিও প্লেব্যাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন গ্রাহক। দেশের বাজারে ডিভাইসটির মূল্য ৯৪ হাজার ৯০০ টাকা।

শাওমি পকোফোন এফ ১

শাওমি পোকোফোন এফ১ ছবি:টেকশহর

কম বাজেটের কারণে অনেকের ফ্ল্যাগশিপ কিংবা শক্তিশালী প্রসেসরের ফোন কেনার আশা প্রায় ছেড়েই দেন। তাদের আশা পূরণে চলতি বছর চমক দেখিয়েছে শাওমি। শাওমির সহযোগী ব্র্যান্ড পোকো সিরিজের প্রথম ফোন এফ১ বাজারে এনেছিল। সাশ্রয়ী দামে উন্নত কনফিগারেশনের কারণে প্রযুক্তি বিশ্বে হৈচৈ ফেলে।

৬.১৮ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লের রেজুলেশন ১০৮০*২২৪৬ পিক্সেল। এটির স্ক্রিন টু বডি রেশিও ৮২.২ শতাংশ। এতে রয়েছে অক্টাকোর কোয়ালকম স্ন‍্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপসেটের প্রসেসর। এর মধ‍্যে ২.৫ গিগাহার্টজের ৪টি কোর ও ১.৮ গিগাহার্টজের ৪টি কোর রয়েছে। গেইমিং সুবিধা দিতে রয়েছে অ্যাড্রেন ৬৩০ জিপিইউ।

৬ ও ৮ গিগাবাইট র‍্যাম সংস্করণে যথাক্রমে ৬৪/১২৮ ও ২৫৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরির সংস্করণে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা। ডিভাইসটির পিছনে রয়েছে ১২ ও ৫ মেগাপিক্সেলের ডুয়েল ক‍্যামেরা সেটআপ ও ফ্ল‍্যাশ। ক‍্যামেরা দুটির অ‍্যাপার্চার যথাক্রমে এফ/১.৯ ও এফ/২.০। সেলফি তোলার জন্য রয়েছে এফ/২.০ অ‍্যাপার্চারের ২০ মেগাপিক্সেল ক‍্যামেরা। রয়েছে ৪ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। দেশের বাজারে ডিভাইসটির মূল্য ২৯ হাজার ৯৯০ টাকা।

ওয়ানপ্লাস সিক্সটি

ওয়ানপ্লাস সিক্সটি ছবি:বিজনেস ইনসাইডার

কিছুটা কম দামে উন্নত ফিচার দেয়ার ক্ষেত্রে ওয়ানপ্লাসেও সুনাম রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি বাজারে আনে ওয়ানপ্লাস সিক্সটি। এতে রয়েছে ৬.৪১ ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস সুপার অ্যামোলিড ওয়াটারড্রপ নচ ডিসপ্লে।

ওয়ানপ্লাস সিক্স টি ফোনের ডিসপ্লের নিচে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। এতে আছে ৩৭০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি, ৮ জিবি র‌্যাম এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ। ৩.৫ মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক নেই।

ফোনটিতে রয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপসেট এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ। রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ৯.০ পাই অপারেটিং সিস্টেম। এর উপরেই থাকবে কোম্পানির নিজস্ব অক্সিজেনওস লেয়ার।

ছবি তোলার জন্য ওয়ানপ্লাস সিক্স টি ফোনে রয়েছে ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরা সেট আপ। এই ফোনে রয়েছে একটি ১৬ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি সেন্সর আর একটি ২০ মেগাপিক্সেল সেকেন্ডারি সেন্সর। এই ক্যামেরায় থাকছে বিশেষ ইমেজ স্টেবিলাইজেশন টেকনোলজি। সেলফি তোলার জন্য থাকছে একটি ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ওয়ানপ্লাস সিক্সটি ফোনের তিনটি ক্যামেরাতেই থাকছে সনি সেন্সর।

গুগল পিক্সেল ৩ ও ৩ এক্সএল

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনে ডুয়েল বা ট্রিপল ক্যামেরা থাকলেও গুগল হেঁটেছে ভিন্ন পথে। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি বাজারে আনে গুগল পিক্সেল ৩ ও ৩ এক্সএল।

এ দুটি স্মার্টফোনের পেছনে একটি ক্যামেরা ব্যবহার করেছে গুগল। ফোন দুটির পেছনে ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে। পিক্সেল ৩ স্মার্টফোনে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি মাপের ওএলইডি ডিসপ্লে এবং ৩ এক্সএলে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি মাপের ওএলইডি ডিসপ্লে রয়েছে। ফোনটির সামনে অবশ্য ডুয়েল ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। এতে সুপার রেজুলেশন জুম, নাইট সাইট লো-লাইট মোড রয়েছে।

গুগলের নতুন এ দুটি ফোন হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ৯.০ পাই–চালিত প্রথম স্মার্টফোন। এতে কোয়ালকমের তৈরি স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চিপসেট রয়েছে। এ ছাড়া এতে ৪ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি স্টোরেজ থাকছে। এর ১২৮ জিবি স্টোরেজের আলাদা সংস্করণও পাওয়া যাচ্ছে।

তবে ফোন দুটির পার্থক্য হচ্ছে, এর স্ক্রিনের আকার ও ব্যাটারিতে। পিক্সেল থ্রিতে ২৯১৫ এমএএইচ ও থ্রি এক্সএলে ৩৪৩০ এমএএইচ ব্যাটারি রয়েছে। ফোনে রয়েছে ফার্স্ট চার্জিং সুবিধা। গুগল বলছে, ১৫ মিনিট চার্জ দিলে ফোন সাত ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে। পিক্সেল ৩ ও পিক্সেল ৩ এক্সএলের দাম শুরু হবে ৭৯৯ ও ৮৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।

অপ্পো ফাইন্ড এক্স

নচবিহীন ফুল ডিসপ্লের ফোন বাজারে এনে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে চমক দেখিয়েছিল অপ্পো। প্রতিষ্ঠানটির ফাইন্ড এক্স ফোনে ছিল স্লাইড ফ্রন্ট ক্যামেরা।

৬.৪ ইঞ্চি বাঁকানো ওলেড পর্দা রয়েছে ডিভাইসটিতে। আছে ২৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ফ্রন্ট ক্যামেরা। পেছনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেল ও ২০ মেগাপিক্সেল ডুয়াল ক্যামেরা।

ডিভাইসটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার এবং ৩.৫ মিলি মিলিমিটার হেডফোন জ্যাক। স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসর এবং আট গিগাবাইট র‍্যামের সঙ্গে ২৫৬ গিগাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ পাওয়া যাবে ডিভাইসটিতে। ৩৭৩০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি আছে। ডিভাইসটির বাজার মূল্য বলা হয়েছে ৯৯৯ ইউরো।

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here