আমি ফেইসবুকে তিনদিন ধরে ব্লক অবস্থায় আছি। কোন পোস্ট, মন্তব্যে ও ম্যাসেজের উত্তর দিতে পারছি না। কেনা অ্যাপল আমার নামে কপিরাইট ক্লেইম দিয়েছে। আইফোন ১১ বাজারে যখন আসে তখন একটি ভিডিও অ্যাপলের ইউইউব চ্যানেল থেকে ডাউনলোড করে টেক কাল্টের পেইজে শেয়ার দিয়েছিলাম। যে জন্য কপিরাইট ক্লেইম খেয়ে ফেইসবুকে লকডাউনে আছি আমি।

এই সময়ে হঠাৎ করে কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চলে এলো আইফোন এসই এর দ্বিতীয় জেনারেশন। ফোনটি এসেই বাজার মাত করে বলতে হবে প্রাইসের কারণে। ৩৯৯ মার্কিন ডলারে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের প্রেসসর বায়নিক এ ১৩ থাকায় ইতোমধ্যে আলোচনায় কেন্দ্রকিন্দুতে পরিনিত হয়েছে এটি।

এদিকে কয়েকদিন আগে ফ্ল্যাগশিপ কিলার ফোনে বাজারে এনে প্রতিবার চমক দেখানো কোম্পানি ওয়ানপ্লাস সবাইকে হতাশ করেছে। স্মার্টফোনের প্রেমীদের মাঝে তাই আশার আলো হিসেবে দেখা দিল আইফোন এসই নতুন সংস্করণটি। যারা ৩৫০-৪০০ ডলারের আশাপাশে ব্র্যান্ড নিউ আইফোন কিনতে চান তাদের জন্য চমৎকার একটি চয়েজ হতে পারে এটি।

এবার প্রশ্ন হলো সেই পুরাতন ডিজাইন, একটা ক্যামেরা, নচ নাই এই ফোনে ২০২০ সালে কেনা কি আসলেই উচিত হবে? কয়েকটি দিক বিবেচনা করলে আসলেই কেনা উচিত না আবার কয়েকটি দিন বিবেচনা করলে চমৎকার ডিল বলা যায়। চলুন একটু বিস্তারিত আলাপ করি।

 

আইফোন এসই ডিজাইন এবং ডিসপ্লে

iPhone-SE-2020-techcult

নতুন আইফোন এসই ডিজাইন দেখতে মুটে্ ট্রেন্ডি না। কেননা বর্তমান সময়টা ফুল ভিউ বা ইনফিনিটি ডিসপ্ল বা নচ ডিসপ্লের যুগ। সেখানে বড় বেজেল এবং গোলাকার বাটন ডিজাইনে বাড়িত মাত্র যোগ করে না। ফোনটি ডিডাজইন হুবহু আইফোন ৮ এর মতই। সহজ কথা বলা যায় আইফোন ৮ এর মধ্যে প্রায় আইফোন ১১ কিংবা ১০আর এর কনফিগারেশন দেয়া।

ব্যাপাররিটাতে অনেকটা এভাবে বললেও ভুল হবে, সেভেন আপের বোতলে কোক। ২০১৭ সালের ডিজাইন এখনকার যুগে সবার ভালো লাগবে এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা ছিমছাম ডিজাইন পছন্দ করেন, নচ পছন্দ করেন না এবং বাজেটের মধ্যে একটি ভালো কনফিগারেশনের ফোন কিনতে চান তাদের কাছে হয়ত ফোনটি পছন্দ হবে।

এতে রয়েছে ৪.৭ ইঞ্চি এইচডি রেটিনা ডিসপ্লে। পিক্সেল রেজুলেশন ১৩৩৪*৭৫০ এবং পিপিআই ৩২৬ পিক্সেল। ডিসপ্লে আইফোন ৮ এর মতই।
আইফোন ১০ আর ফোনে রয়েছে ১৭৯২*৮২৮ পিক্সেল রেজুলেশন। যদি পিক্সেল রেজুলেশন পাথর্ক্য না বিবেচনা করি তাহলে ডিসপ্লে আইফোন ১০ আর কোয়ালিটির। কেননা দুইটি ডিসপ্লের পিপিআই ৩২৬। দু্‌ইটি ডিসপ্লে পার্থক্য রিয়েল লাইফে খুব বেশি পার্থক্য লক্ষ্য করা যাবে না।

প্রসেসর এবং পারফরমেন্স

নতুন আইফোন এসই ফোনে রয়েছে তৃতীয় জেনারেশন নিউরাল ইঞ্জিনের এ১৩ বায়োনিক চিপ। গ্রাফিক্স সুবিধা দিতে রয়েছে অ্যাপলের ৪ কোরের জিপিইউ।
হ্যাঁ এটাই অ্যাপলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রসেসর। যে প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের লাখ টাকার ফোন আইফোন ১১ ম্যাক্স প্রো ফোনে। মাত্র ৩৯৯ মার্কিন ডলার বা ৩৫ হাজার টাকা দামের ফোন এই প্রসেসর খুবই ভালো ডিল।

এই প্রসেসরটি ২০১৯ সালে বাজারে আসা আইফোন ১১ সিরিজের সব ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে। আইফোন ১১, আইফোন ১১ প্রো, আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স।
গত ৫ মাস ধরে আমি প্রাইমারি ডিভাইস হিসেবে এ১৩ চিপসেট সমৃদ্ধ আইফোন ১১ ব্যবহার করছি। পারফরমেন্স নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। এক কথায় ফ্যাগশিপ লেভেলের। আমি লুডু স্টার থেকে শুরু করে পাবজি, কল অফ ডিউট গেইম নিয়মিত খেলি এতে। কোন স্লো বা ফ্রেম ড্রপ কিছুই চোখে পরেনি আমার। দীর্ঘক্ষণ টানা গেইম খেললে কিছুটা গরম হয় সেটা স্বাভাবিক।
যেহেতু একই প্রসেসর তাই ধরে নেয়া যায় নতুন আইফোন এসই ডিভাইসটিতে একই রকম পারফরমেন্স পাওয়া যাবে।

যারা ডিজাইনের জন্য ফোনটি না কেনার চিন্তা করছিলেন তারা পারফরমেন্স জন্য কেনার বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন 😉

ক্যামেরা 

ফোনটিতে মেইন ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে এফ/১.৮ ওয়াইড অ্যাপাচারের ১২ মেগাপিক্সেল। আছে ডুয়েল এলইডি ফ্ল্যাশ। যা দিয়ে ফোরকে পর্যন্ত ভিডিও রেকর্ড করা যাবে।

iphone-se-2020-techcult

ক্যামেরা হার্ডওয়্যার হুবহু আইফোন ৮ এর মত। তবে ফিচারে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আইফোন ৮ এর প্রোটেইট মুড ছিল না। যা এসইতে যুক্ত করা হয়েছে। বাজেট হিসেবে ক্যামেরা খারাপ হবে না বলা যাচ্ছে। আমি যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে এখনো নতুন আইফোন এসই ব্যবহার করেনি তাই ক্যামেরায় নিয়ে কোন মতামত দিচ্ছে না। তবে এটা বলা যায় বাজেট হিসেবে ক্যামেরা ব্যবহারকারীধের হতাশ করবে না। সেলফি তোলার জন্য সামনে রয়েছে এফ/২.২ অ্যাপাচারের ৭ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

ব্যাটারি

অ্যাপল কখনো তাদের প্রেস ইভেন্ট কিংবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফোনের ব্যাটারির মিলিঅ্যাম্পিয়ার সম্পর্কে তথ্য দেয় না। কিন্তু এটা বলে ওমুন ফোন থেকে কত ঘন্টা বা কত % ব্যাকআপ মিলবে।

আইফোন এসইয়ের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। অ্যাপল বলছে আইফোন ৮ এর মতই ব্যাকআপ সুবিধা দিতে নতুন এসই। ভিডিও প্লেব্যাক ১৩ ঘন্টা, অডিও প্লেব্যাক ৪০ ঘন্টা। ৩০ মিনিটে ৫০% চার্জ থাকবে।

এবার আসি দামের ব্যাপারে

ফোনটি আলোচনা আসার সবচেয়ে বড় কারণ হলো মাত্র ৩৯৯ ডলার বা ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ লেভেল প্রসেসর রয়েছে এতে। তবে বাংলাদেশের বাজারে আসলে ডিভাইসটি দাম ৪৫-৫০ হাজারের মত হতে পারে শুরুতে।

 

কেনা উচিত কি?

এটি আসলে মিলিয়ন ডলার প্রশ্নে। আপনার আসলে ডিভাইসটি কেনার উচিত কিনা? যদি আপনার নচ বা বড় ডিসপ্লে বাদ দিয়ে যদি বাজেটের মধ্যে চমৎকার পারফরমেন্স সমৃদ্ধি একটি স্মার্টফোনের দরকার হয় তাহলে নতুন আইফোন এসই আপনাকে হতাশ করবে না। নিতে পারেন।

তবে যদি কিছুটা বড় ডিসপ্লে এবং নচ কিংবা ইনফিনিটি ডিসপ্লে পছন্দ করেন তাহলে এটি না কেনাই ভালো।

বন্ধুদের জানিয়ে দেন

আপনার মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here