বেশ কয়েকবছর ধরেই দেশে অবৈধ মুঠোফোন বন্ধ করার নিয়ে খবর চলছে মিডিয়া জুড়ে। করোনার কারনে গত কিছুমাস ধরে এই সম্পর্কিত খবর মিডিয়ায় কম এলেও আটকে নেই এর কাজ। বিটিআরসি সুত্রমতে আগামি এক জুলাই থেকে দেশে চালু হবে এই প্রযুক্তি। তবে গ্রাহকের হাতে থাকা ফোন বন্ধ হবেনা এই মুহুর্তেই। গ্রাহককে সময় দিবে বিটিআরসি।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘এনইআইআর ব্যবস্থা ১ জুলাই থেকে চালুর প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি আমরা। রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও অবৈধ মুঠোফোন ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে এ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ব্যবস্থাটি চালু করব এমনভাবে যাতে গ্রাহকের ওপর চাপ না পড়ে।’
( প্রথম আলোঃ এক জুন ২০২১)

তবে কেউ চাইলে বিদেশ থেকে মানুষ কিনে আনতে পারবে বা কাউকে উপহার দিতে পারবে তবে সেই স্মার্টফোন বেশি পরিমানে আনলে সরকার কে কর দিতে হবে।
গ্রাহকের হাতে থাকা স্মার্টফোনটি বৈধ নাকি অবৈধ তা যাচাই এর জন্য সিনেসিস আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছে বিটিআরসি। এনইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে বিটিআরসি শনাক্ত করবে স্মার্টফোনটি বৈধভাবে দেশে আমদানি করেছে কিনা অথবা দেশে উৎপাদিত কিনা। সেজন্য ব্যবহার করা হবে স্মার্টফোনের IMEI প্রযু্ক্তি। আনঅফিশিয়াল, অবৈধ, চুরি যাওয়া স্মার্টফোন বাংলাদেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবেনা।

 

মুঠোফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে অনেক সময় আইএমইআই সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না, এ বিষয়ে করণীয় কী?

যেসব মুঠোফোন অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে এবং যেগুলোর আইএমইআই নম্বর বিটিআরসির তালিকাভুক্ত আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারক সংযোজন করেননি, সেগুলোর আইএমইআই নম্বর এ তথ্যভান্ডার থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ১ আগস্ট তথ্যভান্ডার চালু হয়। এর আগের মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর তথ্যভান্ডারে নেই।

এনইআইআর সিস্টেমটি কীভাবে পরিচালিত হবে, অর্থাৎ গ্রাহক কীভাবে এতে সম্পৃক্ত থাকবেন?

এনইআইআর সিস্টেমটি সরাসরি প্রত্যেক মুঠোফোন অপারেটরের নিজ নিজ এনআইআরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গ্রাহকদের মুঠোফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে ব্যবহারের উপযোগী হবে। এনইআইআর সব মুঠোফোনের বৈধতা যাচাইয়ের মাধ্যমে বৈধ না অবৈধ, তা তাৎক্ষণিক চিহ্নিত করবে। ফোন কেনার পর সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগতে পারে।

বাজারে আগে যে মুঠোফোন রয়েছে বা সাধারণ গ্রাহক যে সেটগুলো ব্যবহার করছেন, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে সেগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে?

২০১৯ সালের ১ আগস্টের আগে মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত এবং ওই সময়ের পরে বৈধ পথে আমদানি অথবা দেশে উৎপাদিত মুঠোফোনের তথ্য বিটিআরসির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর বাইরে কোনো অবৈধ মুঠোফোন থাকলে কমিশন ধাপে ধাপে সেগুলো বন্ধের ব্যবস্থা নেবে। এখন পর্যন্ত কমিশনের চিন্তা হলো, সেটগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া।

বিদেশ থেকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে আসা, কারও উপহার বা অনলাইনে কেনা মুঠোফোনের ক্ষেত্রে কী হবে?

এনইআইআর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুঠোফোন কেনার রসিদ যাচাই করে নিবন্ধন দেওয়া হবে। বিদেশ থেকে উপহার পাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে। একই ব্যক্তি বারবার উপহার দিচ্ছেন, তা দেখানো যাবে না। দেশে এখন ব্যবহৃত হওয়া একই আইএমইআই নম্বরের নকল মুঠোফোনের ক্ষেত্রে কী হবে? এসব ফোন তালিকা করে তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। পরে তা বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

মুঠোফোন বৈধ না অবৈধ, তা যাচাইয়ের পদ্ধতি কী?

মুঠোফোনের বৈধতা যাচাইয়ের পদ্ধতি হলো মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD স্পেস ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখে 16002 নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি মেসেজ বা খুদে বার্তায় বৈধ না অবৈধ, তা জানা যাবে। মুঠোফোনের মোড়কে স্টিকারে আইএমইআই নম্বরটি থাকে। এর বাইরে *#06# ডায়াল করে আইএমইআই নম্বর জানা যায়।

বন্ধুদের জানিয়ে দেন
4 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments